নিজস্ব প্রতিবেদন: দুর্গম ও রেস্ট্রিকটেড চ্যাং চেনমো ভ্যালিতে সফল পর্বতারোহণ অভিযান সোনারপুর আরোহীর। ৬৫৩৬ মিটার উচ্চতার চ্যাং চেনমো কাংরি-সহ মোট চারটি শৃঙ্গ আরোহণের দাবি করেছে অভিযাত্রী দল। এর মধ্যে তিনটি শৃঙ্গকে ‘ভার্জিন পিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে দল। গোটা অভিযান সম্পন্ন হয়েছে অ্যালপাইন স্টাইলে, কোনও শৃঙ্গেই ব্যবহার করা হয়নি ফিক্সড রোপ।গত ২৫ আগস্ট কলকাতা থেকে ‘Chang Chenmo Kangri Expedition 2026’-এর যাত্রা শুরু হয়। ৩ সেপ্টেম্বর প্রায় ৫৫০০ মিটার উচ্চতায় বেস ক্যাম্প তৈরি করার পর ৫৯০০ মিটারের একটি রিজ অতিক্রম করে চ্যাং চেনমো গ্লেসিয়ারের পাশে ৫৬৯০ মিটার উচ্চতায় ক্যাম্প-১ তৈরি করা হয়।

৯ সেপ্টেম্বর নৈতিক নস্কর, দেবাশীষ মজুমদার ও দীপাশ্রী পাল ৬৪০০ মিটার উচ্চতার একটি শৃঙ্গ আরোহণ করেন। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর আসে অভিযানের অন্যতম বড় সাফল্য। নৈতিক নস্কর, দেবাশীষ মজুমদার, তুহিন ভট্টাচার্য, ঋক রায়, অপরেশ সান্নিগ্রাহী, সত্যরূপ সিদ্ধান্ত, মলয় পুরকাইত, দীপাশ্রী পাল এবং অভিযানের নেতা রুদ্র প্রসাদ হালদার ৬৫৩৬ মিটার উচ্চতার চ্যাং চেনমো কাংরির শীর্ষে পৌঁছন। অভিযাত্রী দলের দাবি, তাঁরা একটি নতুন রুট ব্যবহার করে শৃঙ্গটিতে পৌঁছেছেন। দলের বক্তব্য, অভিযান চলাকালীন তাঁরা জানতে পারেন ১০ জুন ভারতীয় সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য স্থানীয়ভাবে চ্যাং চেনমো আরোহণ করেছিলেন। তবে সেই অভিযানের নির্ভরযোগ্য নথি তাঁদের হাতে না থাকায় নিজেদের আরোহণকে ‘প্রথম অসামরিক আরোহণ’ বা ‘1st Civilian Ascent’ হিসেবে উল্লেখ করছে সোনারপুর আরোহী। অভিযানের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয় ১৪ সেপ্টেম্বর। আট অভিযাত্রী মধ্যরাতে গ্লেসিয়ার মার্চ শুরু করার পর প্রায় ৫৯০০ মিটার উচ্চতায় প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে খোলা গ্লেসিয়ারের উপর রাত কাটাতে বাধ্য হন। তাপমাত্রা নেমে যায় প্রায় মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। তুষারপাত ও প্রবল ঠান্ডার কারণে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত সেই সামিট প্রচেষ্টা বাতিল করা হয়। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর ছয় অভিযাত্রী ৬৪২০ মিটার উচ্চতার আরও একটি শৃঙ্গ আরোহণ করেন। ২০ সেপ্টেম্বর প্রায় ৬২৭৪ মিটার উচ্চতার তৃতীয় শৃঙ্গটিতে পৌঁছয় অভিযাত্রী দল। সোনারপুর আরোহীর দাবি, চ্যাং চেনমো কাংরি ছাড়া এই তিনটি শৃঙ্গ আগে আরোহণ করা হয়নি।

দলের তরফে জানানো হয়েছে, ৬৪০০ মিটারের শৃঙ্গটির নাম এডমন্ড হিলারির নামে, ৬৪২০ মিটারের শৃঙ্গটির নাম তেনজিং নোরগের নামে এবং ৬২৭৪ মিটারের শৃঙ্গটির নাম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামে রাখার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জামলিং তেনজিং নোরগে, পিটার হিলারি এবং নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোর সম্মতি পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি অভিযাত্রী দলের। অভিযানের শেষ পর্যায়ে বেস ক্যাম্পে তীব্র জলসংকটও দেখা দেয়। কখনও কয়েকশো মিটার দূর থেকে জল সংগ্রহ, আবার কখনও গ্লেসিয়ার থেকে বরফ এনে গলিয়ে পানীয় ও রান্নার জলের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। প্রশাসনিক বিধিনিষেধ, শেষ মুহূর্তে রুট পরিবর্তন, তীব্র ঠান্ডা, তুষারপাত ও জলসংকটের মধ্যেও অভিযান শেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর দলটি রোড হেড সোংৎসালুতে ফিরে এসেছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে অভিযাত্রীদের কলকাতায় ফেরার কথা।
