কাকদ্বীপ: মাদকবিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল সুন্দরবন পুলিশ জেলা। কাকদ্বীপ ও রায়দিঘি থানা এলাকায় পরপর অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ মাদকজাত দ্রব্য উদ্ধার হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত কেজি গাঁজা এবং ১৬ গ্রাম সন্দেহজনক মাদক। পৃথক তিনটি ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। গোটা পুলিশ জেলা জুড়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে এখনও পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কাকদ্বীপ থানার পুলিশ গণেশপুর তৃতীয় ঘেরি দক্ষিণ এলাকার একটি দোকান সংলগ্ন বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে উদ্ধার হয় দুটি কালো পলিথিন। তার ভিতরে বিভিন্ন রঙের কাগজে মোড়ানো ৯৭টি পুরিয়া পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া প্রায় ১৬ গ্রাম পদার্থের গন্ধ হেরোইন বা ব্রাউন সুগারের মতো বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। ঘটনায় মেনকা শীট নামে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়।
অন্যদিকে, সোমবার রাতেই রায়দিঘি সেতু সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় রায়দিঘি থানার পুলিশ। সেতুর নিচে একটি দোকান থেকে উদ্ধার হয় প্রায় সাড়ে চার কেজি গাঁজা। ঘটনায় ভাস্কর নস্কর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ধৃত ভাস্কর একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি ছিলেন। মঙ্গলবার তাঁকে ডায়মন্ড হারবার আদালতে পেশ করা হয়।
এর আগে রবিবার রায়দিঘির গোলপার্ক এলাকাতেও অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনায় রূপকুমার মল্লিক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর জানিয়েছেন, গত ৩০ অক্টোবর থেকে গোটা পুলিশ জেলা জুড়ে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান সপ্তাহ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত হয়েছে প্রচুর মাদকজাত দ্রব্য। আগামী দিনেও এই অভিযান চলবে। পাশাপাশি প্রতিটি থানা এলাকায় মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে।
মাদক কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে মাদকমুক্ত সুন্দরবন গড়ে তোলাই লক্ষ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
