বারুইপুরঃ প্রেমের সম্পর্কের জেরে নৃশংস খুনের অভিযোগ উঠল বারুইপুরে। বাড়িতে ডেকে শারীরিক সম্পর্কের পর প্রেমিকাকে খুন করে দেহ বস্তাবন্দী করে জলাশয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ প্রেমিকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত প্রেমিক ও তার দাদাকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়দিঘীর বাসিন্দা রুকসানা খাতুনের সঙ্গে মিসকলের মাধ্যমে পরিচয় হয় মেহেরাজ হোসেনের। মেহেরাজ বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে, যদিও তা গোপন রাখা হয়েছিল। বারুইপুরের পদ্মপুকুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে দাদা মেহেবুব হোসেনের সঙ্গে থাকত সে। ঘটনার দিন অর্থাৎ রবিবার বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে রুকসানাকে ডেকে আনে মেহেরাজ। তদন্তে উঠে এসেছে, বিয়ের জন্য চাপ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে দুজনের মধ্যে অশান্তি হয়। সেই অশান্তি থেকে বচসার একপর্যায়ে মানিব্যাগে থাকা ব্লেড দিয়ে রুকসানার গলা কেটে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর দেহ বস্তাবন্দী করে ঘরেই রাখা হয়। রাতে দাদা বাড়ি ফিরলে তাকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে একটি গাড়িতে করে ধোপাগাছির একটি জলাশয়ে দেহ ফেলে দেওয়া হয়।
সোমবার সকালে স্থানীয়রা দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় এবং তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে গাড়িটিকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তের দাদা পরিবার নিয়ে বকখালিতে চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পর তাকে আটক করা হয়। মেহেরাজকে বড়বাজারের একটি লুঙ্গি কারখানা থেকে ডেকে এনে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইতিমধ্যেই খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রুকসানার দাদার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। আজ অভিযুক্ত দুজনকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।
