বারুইপুরঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোবিন্দপুর রত্নেশ্বর হাই স্কুলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে এক অভিনব আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিনিময় কর্মসূচির আয়োজন করা হল। বর্জ্যকে কীভাবে সম্পদে পরিণত করা যায়, সেই শিক্ষা ও সচেতনতার দিশারী হয়ে উঠছে এই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।
গত তিন বছর ধরে বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা প্লাস্টিক, কাগজ ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রী দিয়ে নানান ধরনের সৌখিন দ্রব্য, অলংকার ও শোপিস তৈরি করছে। শুধু তাই নয়, সেই সমস্ত সামগ্রী বিক্রি করে কীভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়, তারও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে পড়ুয়ারা। বিভিন্ন প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তারা ইতিমধ্যেই একাধিক সাফল্যও অর্জন করেছে। এবার বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের রান্নাঘরের আনাজের খোসা এবং গৃহস্থালির জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার তৈরির লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে একটি মাইক্রো কম্পোস্টার মেশিন-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, এয়ার অ্যান্ড ওয়াটার-এর অধিকর্তা অধ্যাপক ড. সাধন কুমার ঘোষ। তাঁর নেতৃত্বে তাইওয়ানের ফু জেন ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি-র অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ও ছাত্র-ছাত্রীরা আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও শিক্ষাবিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিদ্যালয়ে আসেন। অনুষ্ঠানে ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের তৈরি পুনর্ব্যবহৃত সামগ্রীর প্রদর্শনী ও বিক্রি, মাইক্রো কম্পোস্টার মেশিনের উদ্বোধন, ভারত ও তাইওয়ানের জাতীয় সংগীত পরিবেশন, অতিথি বরণ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার ভট্টাচার্যের স্বাগত ভাষণ, অধ্যাপক ড. সাধন কুমার ঘোষের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বক্তব্য এবং তাইওয়ানের অধ্যাপিকা মিয়াও জুন চো-এর বক্তব্য। এছাড়াও দুই দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফটো সেশন, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের সফল সমাপ্তি হয়।
