নরেন্দ্রপুরঃ নরেন্দ্রপুর থানার আইসি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। আগের আইসি সুরিন্দর সিংকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় দায়িত্বে আনা হয়েছে প্রসেনজিত বিষ্ণুকে। এই নিয়োগ ঘিরেই উঠেছে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তথা সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন কমিশনকে চিঠি দিয়ে দাবি করেছেন, নতুন আইসি প্রসেনজিত বিষ্ণু এবং সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দেবাশীষ ধর পরস্পরের ঘনিষ্ঠ। অভিযোগ, তাঁরা একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। চিঠিতে প্রসেনজিত বিষ্ণুকে ওই থানা থেকে সরানোর আবেদন জানানো হয়েছে।
এই ইস্যুতে তৃণমূল প্রার্থী ফিরদৌসী বেগমও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, নিরপেক্ষ আইসি দেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও হঠাৎ করে আগের আইসিকে কেন সরানো হল, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তাঁর কথায়, “নিজেদের পছন্দমতো অফিসারকে বসানো হয়েছে, এতে নিরপেক্ষ নির্বাচন কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।” অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী দেবাশীষ ধর পাল্টা দাবি করেছেন, তিনি নিজে প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক হওয়ায় অনেকের সঙ্গেই তাঁর পরিচয় রয়েছে। আগের আইসির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ জানানো হয়েছিল বলেই এই বদলি হয়েছে। তাঁর দাবি, এই ট্রান্সফারের সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই, নির্বাচন কমিশনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডেরেক ও ব্রায়েনের অভিযোগ প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে দেবাশীষ ধর বলেন, “এই ধরনের তথ্য কোথা থেকে আনা হয়েছে জানি না। প্রমাণ দিতে হবে, না হলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।” এদিকে, এই ইস্যুতে বাম প্রার্থী মোনালিসা সিনহা কটাক্ষ করে বলেন, প্রশাসন এখন দলদাসে পরিণত হয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূলের লড়াইকে ‘মেকি’ বলেও দাবি করেন তিনি।
