সুন্দরবন: সুন্দরবনের মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং আস্থার আরেক নাম। সুন্দরবন দপ্তরের মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর উদ্যোগে প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, তৈরি হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত হয়েছে বহু এলাকার জীবনযাত্রা। সেই কারণেই আজও সুন্দরবনের মানুষ মনে রেখেছেন বর্ষীয়ান বাম নেতা কান্তি গাঙ্গুলি-কে।
আরও পড়ুনঃ বিয়ের প্রস্তাবে পরিবারের আপত্তি, যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু; তদন্তে পুলিশ
গত সাত দিনে কুলতলি এলাকায় বাঘের হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন গোপাল চক্রবর্তী, গোষ্ঠবিহারী জানা, গোপাল নস্কর এবং রামপ্রসাদ বাগানি। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণের শিকার হন তাঁরা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যদের হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে তাঁদের পরিবার। কেউ হারিয়েছেন স্বামীকে, কেউ বা বাবাকে। শোকের পাশাপাশি তাঁদের মনে এখন বড় প্রশ্ন—কীভাবে চলবে সংসার, কী হবে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ? অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত সরকারি সাহায্য মেলেনি। শাসক বা বিরোধী কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিও তাঁদের খোঁজ নিতে আসেননি।
এই পরিস্থিতিতে বয়সের ভার উপেক্ষা করে দুর্গত পরিবারগুলির কাছে পৌঁছে গিয়েছেন কান্তি গাঙ্গুলি। শোকাহত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সাহস জুগিয়েছেন, কথা বলেছেন এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তাঁর উপস্থিতি কিছুটা হলেও ভরসা জুগিয়েছে স্বজনহারা পরিবারগুলিকে। সুন্দরবনের মানুষের কাছে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, সংকটের মুহূর্তে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এখনও এগিয়ে আসেন সেই পুরনো দিনের নেতা, যার সঙ্গে এলাকার মানুষের সম্পর্ক শুধুমাত্র রাজনীতির নয়, আবেগ ও বিশ্বাসেরও।
