সোনারপুরঃ বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস উপলক্ষে শস্য শ্যামলা কেভিকে (এসএসকেভিকে), আরাপাঁচ–সোনারপুর ও তিউড়িয়া গ্রামে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজন করা হল মাটির স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ ও কৃষক সচেতনতা কর্মসূচি। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সুদীপ্ত ত্রিপাঠী, প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। কৃষিবিদ ড. কৃষ্ণেন্দু রায় উপস্থিত কৃষকদের স্বাগত জানান।
শস্য শ্যামলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান ও বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ডঃ স্বাগত ঘোষ জানান—বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস আমাদের মাটির গুরুত্ব, তার সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করে। মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড কৃষকদের হাতে একটি বাস্তবসম্মত বৈজ্ঞানিক হাতিয়ার, যা মাটির প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের নির্দেশ দেয়, ফসল উৎপাদন বাড়ায় এবং কৃষি অর্থনীতিকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে। মাটির স্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদনশীলতা ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন বিভিন্ন অতিথি। ড. মণিদীপ্ত সাহা সয়েল হেলথ কার্ডের সুবিধা, মাটির পুষ্টিগুণ রক্ষা এবং সঠিক কৃষিপদ্ধতির উপর জোর দেন। ড. অভিজিৎ ঘোষাল, ড. প্রসেনজিৎ কুণ্ডু, ড. সুদেষ্ণা পান্জা ও ড. অনুপম মুখার্জি কৃষির উন্নত প্রযুক্তি, মাটির গুণমান উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব চাষ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। ড. ত্রিপাঠী বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলীয় সমস্যাজনক মৃত্তিকা কীভাবে সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনা করা যায়, তার ব্যাখ্যা দেন।
মোট ১৩৪ জন মহিলা কৃষক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং বিতরণ করা হয় ১১৫টি মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড। তিউড়িয়া গ্রামে পুষ্টিবাগান, কম্পোস্টিং, মৃত্তিকা স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন বিশেষজ্ঞরা। কৃষকদের উদ্যোগে আয়োজিত অঙ্কন প্রতিযোগিতায় ‘স্বাস্থ্যকর শহরের জন্য স্বাস্থ্যকর মাটি’ বিষয়ে দু’জনকে পুরস্কৃত করা হয়। তিনজন মহিলা কৃষককে সম্মান জানানো হয় বৈজ্ঞানিক উপায়ে কম্পোস্টিং ও সবজি চাষে তাদের অগ্রণী ভূমিকায়। ভার্মিকম্পোস্টিং প্রযুক্তির প্রসারে পাঁচটি পলিড্রাম ও কেঁচো বিতরণ করা হয়, যাতে গ্রামের আরও বেশি কৃষক টেকসই পদ্ধতিতে কৃষির উন্নয়ন করতে পারেন।
