নিজস্ব সংবাদদাতাঃ এই শীতে যদি ভিড় এড়িয়ে শান্ত, নিরিবিলি কোনও পাহাড়ি গন্তব্যের খোঁজে থাকেন, তাহলে মাঝিধুরা হতে পারে আপনার আদর্শ ঠিকানা। দার্জিলিং জেলার অন্তর্গত এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম এখনও মূলত অফবিট হিসেবেই পরিচিত। কোলাহলহীন পরিবেশ, নির্মল হাওয়া আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য মন মুহূর্তেই ছুঁয়ে যাবে।

মাঝিধুরার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখানকার ঘন পাইনের জঙ্গল। এক লহমায় মনে হবে যেন আপনি কাশ্মীরের কোনও উপত্যকায় দাঁড়িয়ে আছেন। তাই অনেক পর্যটকই মাঝিধুরাকে ‘কাশ্মীরের পেহেলগাম’ বলে থাকেন। সকালে কুয়াশা মোড়া পাহাড়, আর বিকেলে রোদ ঝলমলে সবুজ—প্রকৃতির এই রূপ সত্যিই মোহিত করে। এই অঞ্চলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হল মানি চেলিং মনেস্ট্রি। শান্ত পরিবেশে অবস্থিত এই বৌদ্ধ মঠ পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। এখান থেকে চাইলেই ঘুরে নেওয়া যায় সুখিয়াপোখরি, ঘুম স্টেশন, দার্জিলিং, মিরিক, লেপচাজগত, পশুপতি, ইন্ডিয়া–নেপাল বর্ডার, গোপালধারা টি এস্টেট ও সীমানা ভিউ পয়েন্টের মতো জনপ্রিয় জায়গাগুলি।

অভিযানপ্রেমীদের জন্য রয়েছে আরও আকর্ষণ—আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে নেপালে ঢুকে সেখানকার গ্রাম ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ। মাঝিধুরা থেকেই পরিষ্কার দিনে চোখে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা, নেপালের গ্রাম ও বিস্তীর্ণ পাহাড়ি উপত্যকা। যাতায়াতের দিক থেকেও মাঝিধুরা বেশ সুবিধাজনক। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দূরত্ব প্রায় ৬৭ কিলোমিটার। সরাসরি গাড়ি বুক করে আসা যায়, অথবা শেয়ার গাড়িতে সুখিয়াপোখরি পৌঁছে সেখান থেকে মাঝিধুরা যাওয়া সম্ভব। সব মিলিয়ে, এই শীতে নিরিবিলি পাহাড়ি ছুটির জন্য মাঝিধুরা নিঃসন্দেহে এক অসাধারণ গন্তব্য।
MAD ABOUT TRAVEL – 8509870920 ও 8240157592
