সোনারপুরঃ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছে আর দু’চাকার প্রতি এক অদ্ভুত টান—এই দুই শক্তিকেই সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছেন সোনারপুরের বিদ্যাধরপুরের জয়শ্রী মণ্ডল। জীবনের পথে বারবার এসেছে প্রতিকূলতা। কখনও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, কখনও সামাজিক বাধা। কিন্তু থেমে যাননি তিনি। বরং প্রতিটি বাধাই যেন আরও দৃঢ় করেছে তার জেদ আর স্বপ্নকে। জয়শ্রীর বাবা দুলাল চন্দ্র মণ্ডল একজন ব্যবসায়ী। মা–বাবা ও তিন বোনের সংসারে বড় মেয়ে জয়শ্রী। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে সাহায্য করার ইচ্ছে ছিল তার। সেই সঙ্গে ছিল বাইকের প্রতি গভীর ভালোবাসা। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই বাইকের প্রতি টান তৈরি হয়। প্রথমে পিসতুতো ভাইয়ের বাইকে হাতেখড়ি, তারপর বাবার কাছে বাইকের আবদার।

২০১৯ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নিজের প্রথম বাইক পান জয়শ্রী। সেই বাইক নিয়েই শুরু হয় তার সংগ্রামের পথচলা। কখনও ভোররাত, কখনও গভীর রাত—জোমাটো, ওলা, উবের, ফ্লিপকার্টে কাজ করে সংসারে সাহায্য করেছেন তিনি। পথে এসেছে নানা সমস্যা, এসেছে ভয়ও, কিন্তু কোনও বাধাই তাকে থামাতে পারেনি। ২০২২ সালে বাবার দেওয়া একটি অ্যাকশন ক্যামেরা যেন নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। একাই বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন দীঘার উদ্দেশ্যে। সেই সফরই তার জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এরপর একে একে উড়িষ্যা, ঝাড়খণ্ড, পুরুলিয়া, দার্জিলিং, সিকিম, আসাম, গৌহাটি, মেঘালয় এবং অরুণাচলপ্রদেশ—দু’চাকায় পাড়ি দিয়েছেন বহু পথ।

২০২৪ সালে তিনি তৈরি করেন ‘দু-চাকায় বাঙালী’ নামে একটি ভ্রমণগোষ্ঠী। লক্ষ্য একটাই—সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলা এবং একদিন সারা পৃথিবী ঘুরে দেখা। জয়শ্রীর গল্প শুধু বাইক চালানোর গল্প নয়। এটি সাহস, আত্মনির্ভরতা এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনুপ্রেরণার গল্প।
