নরেন্দ্রপুরঃ আবারও লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণার ঘটনা। প্রতারকের খপ্পরে পড়ে অর্থ খুইয়ে নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন এক যুবতী। অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। প্রতারণার এই ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠেছে, লোন সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস আদায় করে কীভাবে প্রতারকচক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার বাসিন্দা পম্পা মাইতি দীর্ঘদিন ধরেই একটি ব্যক্তিগত লোনের জন্য চেষ্টা করছিলেন। এই সময়েই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে একটি বেসরকারি সংস্থার লোন এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দেন। শুরুতে পম্পা দেবীকে আশ্বস্ত করা হয় যে, সমস্ত নিয়ম মেনে আবেদন করলে সহজেই লোন মঞ্জুর হবে। তারপর বেশ কয়েকবার লোনের জন্য আবেদনও করেন পম্পা মাইতি। প্রতিবারই কোনও না কোনও কারণে লোন বাতিল হয়ে যায় বলে জানানো হয় তাঁকে। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি বলেন, “আপনি যদি ভেতরের কিছু প্রক্রিয়া ম্যানেজ করতে চান, তাহলে সাড়ে সাত হাজার টাকা দিলে আমি বিষয়টা ম্যানেজ করে দিতে পারি।” শুরুতে কিছুটা সন্দেহ থাকলেও, দ্রুত লোন পাওয়ার আশায় ওই পরিমাণ টাকা অনলাইনে ট্রান্সফার করে দেন তিনি।
টাকা পাওয়ার পর থেকেই আচমকা উধাও হয়ে যায় অভিযুক্ত। বন্ধ হয়ে যায় সমস্ত ফোন নম্বর, মেসেজের উত্তরও মিলছে না। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও পম্পা মাইতি কোনও রকমে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। তখনই বুঝতে পারেন যে তিনি এক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ঘটনার পরেই তিনি নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তের মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ট্রেস করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এই ঘটনার সঙ্গে কোনও বড় চক্র জড়িত কিনা। এই ঘটনার পর স্থানীয় মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। লোনের আশায় প্রতারিত হওয়া নতুন নয়, তবে এবার সরাসরি টাকা নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা চিন্তাজনক বলেই মনে করছেন অনেকে। পুলিশও মনে করছে, এ ধরনের প্রতারণা রোধে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার নামে সরাসরি টাকা পাঠানোর আগে ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি পদক্ষেপেই সতর্ক থাকা জরুরি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে দ্রুত অভিযুক্তের সন্ধান করা হবে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও কেউ আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতারকের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
