সোনারপুরঃ লড়াইয়ের আর এক নাম ধ্রুবা দাসগুপ্ত। কলকাতার ভবিষ্যৎ রক্ষার এই সংগ্রামে তিনি একা নন, তবু নেতৃত্বটা তাঁরই হাতে। শহরের অস্তিত্ব রক্ষায় নিরলসভাবে লড়ে যাচ্ছেন তিনি, আর সেই লড়াইয়ে পাশে টেনে নিচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষকেও। পাটনায় জন্ম ধ্রুবা দাসগুপ্তের। বাবার চাকরির সূত্রে উত্তর ভারতের নানা জায়গায় তাঁর বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা, পরবর্তীতে চন্দননগরে শিক্ষা জীবন সম্পূর্ণ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বারুইপুর প্রেসক্লাবের ‘চিত্তেচিত্র ২৬’ চিত্র প্রদর্শনীতে পুরস্কার ঘোষণা, সৌরভ দাসের প্রথম স্থান
বর্তমানে কসবায় বসবাস করলেও ধ্রুবা দাসগুপ্তের প্রতিদিনের জীবন জড়িয়ে রয়েছে পূর্ব কলকাতার জলাভূমির সঙ্গে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি ছুটে বেড়ান জলাভূমির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। কলকাতার ময়লা জল কীভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে পুনর্ব্যবহার করা যায় এবং তা পরিবেশবান্ধবভাবে কাজে লাগানো সম্ভব—এই বিষয়েই দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন তিনি। তাঁর মূল লক্ষ্য পূর্ব কলকাতার জলাভূমি সংরক্ষণ, যা শুধু পরিবেশ নয়, গোটা শহরের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষদের জীবিকার দিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন ধ্রুবা। জলাভূমি এলাকায় মাছচাষ, অর্গানিক কৃষি ও বিকল্প জীবিকার পথ দেখিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের আত্মনির্ভর করে তুলছেন তিনি। পরিবেশ রক্ষা ও জীবিকার এই মেলবন্ধনই তাঁর কাজের সবচেয়ে বড় শক্তি। ধ্রুবা দাসগুপ্ত জানান, তাঁর এই লড়াইয়ের পথপ্রদর্শক পরিবেশবিদ ডঃ ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই তিনি এগিয়ে চলেছেন। ধ্রুবার এই নিরলস প্রচেষ্টা ইতিমধ্যেই সর্বমহলে নজর কেড়েছে এবং কলকাতাকে বাঁচানোর লড়াইয়ে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছে।
