গড়িয়া: বালিয়া নফর চন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের সরস্বতী পুজোর মূল ভাবনা নজরুল ইসলামের অমর পঙ্ক্তি—**“কারার ওই লৌহ কপাট”**। আলিপুর জেল মিউজিয়ামের অনুসরণে নির্মিত এই ভাবনার উদ্দেশ্য পরাধীন ভারতের সেই মহান বিপ্লবীদের স্মরণ করা, যাঁরা দেশমাতৃকার সেবায় আত্মবিসর্জন দিয়েছেন।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আলিপুর জেল কুঠুরির আদলে তৈরি করা হয়েছে একাধিক ছোট ছোট সেল। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, ঋষি অরবিন্দ ঘোষ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বরেণ্য বিপ্লবীদের জীবন ও সংগ্রাম—জীবনী, কাটআউট ও লাইভ মডেলের মাধ্যমে। পাশাপাশি রয়েছে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা ইন্দিরা গান্ধীর মডেল।মঞ্চসজ্জাও করা হয়েছে মিউজিয়ামের আদলে। ফাঁসির মঞ্চ, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিপ্লবীদের বৃত্তান্ত, মহিলা বিপ্লবীদের জন্য আলাদা মঞ্চে লাইভ মডেল—সব মিলিয়ে ইতিহাসের এক জীবন্ত পাঠ। বিনয়–বাদল–দীনেশের মূর্তি ও লাইভ মডেলও বিশেষ আকর্ষণ, যেখানে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরাই মডেল হিসেবে অংশ নিয়েছে। জেল কুঠুরিতে সাধারণ বন্দিদের উপর চালানো নির্যাতনের চিত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে সেই সময়ের কঠোর বাস্তবতা। আলিপুর জেল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত দীনেশ গুপ্তের ব্যবহৃত পিস্তলের একটি রেপ্লিকাও রাখা হয়েছে।
ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের নিজেদের হাতে তৈরি পাটের ভারতবর্ষ ও ভারতমাতার মডেল নজর কাড়বেই। হারিয়ে যাওয়া পাটশিল্পকে তার হৃত গৌরবে ফিরিয়ে আনাই এই মডেল তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য।
এছাড়া রয়েছে **লাইট অ্যান্ড সাউন্ড রুম**, যেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে আলিপুর জেল মিউজিয়ামের ইতিহাস, বিনয়–বাদল–দীনেশের অলিন্দ যুদ্ধ এবং নেতাজির জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ।সবশেষে ভাবনার কেন্দ্রে—**মা সরস্বতী**, যেন পরাধীনতার এই কারাগারের লৌহ কপাট ভেঙে আমাদের নতুন জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করছেন।
