বকখালিঃ বাংলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালিতে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে সমুদ্র উপকূলের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ ঝাউ জঙ্গল। অভিযোগ, দিনের পর দিন নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে ঝাউ সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। বন দপ্তরের নজরদারি এড়িয়ে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ এই গাছ নিধন চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
আরও পড়ুনঃ নির্ভুল ভোটার তালিকার দাবিতে সোনারপুরে সিপিএমের বিক্ষোভ
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিয়মকে উপেক্ষা করেই কিছু অসাধু ব্যক্তি জঙ্গলের ভেতর থেকে গাছ কেটে পাচার করছে। অথচ জঙ্গলের একেবারে কাছেই রয়েছে বন দপ্তরের অফিস। ফলে এত বড় আকারে গাছ কাটা কীভাবে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিবেশপ্রেমীদের মতে, এক সময় এই ঘন ঝাউ জঙ্গলই ছিল বকখালির পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় Cyclone Amphan-এর তাণ্ডবে এই বনাঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। গত কয়েক বছরে প্রকৃতি ধীরে ধীরে আবার নিজের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে শুরু করলেও, নতুন করে গাছ নিধনের ঘটনায় সেই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এভাবে জঙ্গল উজাড় হতে থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়বে এবং বকখালি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারাবে। তাই দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং কড়া নজরদারির দাবি তুলেছেন পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয়রা। বনভূমি রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব—এমনটাই মনে করছেন এলাকার মানুষ।
