চম্পাহাটি: কালীপুজো ও দীপাবলির আগে নিষিদ্ধ শব্দবাজির বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে নামল বারুইপুর পুলিশ জেলা। মঙ্গলবার বারুইপুরের চম্পাহাটির ঐতিহ্যবাহী হারাল বাজিবাজারে যৌথ অভিযান চালায় বারুইপুর পুলিশ জেলা ও বারুইপুর থানার পুলিশ। অভিযানে নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রির অভিযোগে পাঁচটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে নিষিদ্ধ চকলেট বোম-সহ অন্যান্য শব্দবাজি। পাঁচজন দোকান মালিকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
এদিনের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস, এসডিপিও, বারুইপুর থানার আইসি-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। কালীপুজো ও দীপাবলিকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই জমে উঠতে শুরু করেছে চম্পাহাটির হারাল বাজিবাজার। বাজারের দোকানগুলিতে সরকারি নিয়ম মেনে পরিবেশবান্ধব বাজি বিক্রি হচ্ছে কি না, নিষিদ্ধ শব্দবাজি মজুত বা বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশি চলাকালীন পাঁচটি দোকান থেকে নিষিদ্ধ চকলেট বোম-সহ বিপুল পরিমাণ শব্দবাজি উদ্ধার হয়। অভিযোগ, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ওই দোকানগুলিতে অবৈধভাবে শব্দবাজি বিক্রি করা হচ্ছিল। এরপরই পাঁচটি দোকান আপাতত বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পাঁচজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস জানান, নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রি বন্ধ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। চালানো হয়েছে সচেতনতামূলক প্রচারও। তা সত্ত্বেও একাংশের অসাধু ব্যবসায়ী বেআইনিভাবে শব্দবাজি বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ। এই ধরনের বাজি থেকে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বাজি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। যাঁদের জীবিকা এই বাজি ব্যবসার উপর নির্ভরশীল, তাঁদের সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবসা করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এরপরও নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রি বন্ধ না হলে প্রয়োজনে গোটা হারাল বাজিবাজারই বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে। পুলিশের তরফে হারাল বাজি ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনকেও সতর্ক করা হয়েছে। বাজারে যাতে কোনওভাবেই নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি না হয়, সে বিষয়ে সংগঠনকে নিজস্ব নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উপরেও জোর দিয়েছে পুলিশ। কালীপুজো ও দীপাবলির আগে পুলিশের এই অভিযানে হারাল বাজিবাজারের ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উৎসবের মরশুমে নিষিদ্ধ শব্দবাজির কারবার রুখতে পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
