বারুইপুরঃ বারুইপুরে তৃণমূল যুবনেতার বাড়িতে গভীর রাতে বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বাড়ির দেওয়াল কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, উড়ে যায় বাড়ির গেট। শুধু বিস্ফোরণ নয়, ঘটনার পর বাড়িতে আগুনও লাগে। আর এই বিস্ফোরণকে ঘিরেই এখন তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। সত্যিই কি শুধুমাত্র গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই এই বিস্ফোরণ, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ঘটনাটি বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তরভাগ এলাকায়। রামনগর পঞ্চায়েতের এই এলাকায় গভীর রাতে প্রায় ২টো নাগাদ আচমকা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের বহু মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।
যে বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটি তৃণমূল যুবনেতা দ্বিজেন মণ্ডলের বাড়ি। তিনি রামনগর অঞ্চল তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে বলেই স্থানীয় সূত্রে দাবি। বিস্ফোরণের পর বাড়ির একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেওয়াল ভেঙে যায়, উড়ে যায় গেট। পাশাপাশি বাড়িতে আগুনও ধরে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল। দমকলের একটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি দীপঙ্কর মণ্ডল গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ওই বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করা হত এবং দুষ্কৃতীদের যাতায়াত ছিল। তাঁর আরও অভিযোগ, দ্বিজেন মণ্ডলের রাজনৈতিক দাপটের কারণে এলাকার বহু বিজেপি কর্মীকে বাড়িছাড়া হয়ে থাকতে হয়েছিল। যদিও বিজেপির এই অভিযোগের কোনও সত্যতা এখনও সামনে আসেনি এবং বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। অন্যদিকে, পুরো ঘটনার জন্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তৃণমূল নেতা তথা বারুইপুর ব্লক সভাপতি শ্যামসুন্দর চক্রবর্তীর দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই দ্বিজেন মণ্ডলের উপর একাধিকবার হামলা হয়েছে। তাঁর দাবি, দ্বিজেন মণ্ডল বর্তমানে নিজের বাড়িতেই ঢুকতে পারছেন না। শ্যামসুন্দর চক্রবর্তীর আরও অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, এলাকায় যাতে বেআইনিভাবে বিস্ফোরক মজুত না থাকে, তা পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ আধিকারিকরা। বাড়িটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেন্সিক দল। এখন সেই ফরেন্সিক রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে তদন্তকারীরা। সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে, নাকি অন্য কোনও বিস্ফোরক ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে—তা রিপোর্ট সামনে এলেই স্পষ্ট হবে। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটল এবং এর নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, একটি বিস্ফোরণকে ঘিরে এখন সামনে আসছে একাধিক দাবি এবং পাল্টা দাবি। রাজনৈতিক অভিযোগের পাশাপাশি তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে বিস্ফোরণের প্রকৃত উৎস। ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তেই শেষ পর্যন্ত এই বিস্ফোরণের আসল কারণ সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।
