বারুইপুর: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় অবরোধ, ভাঙচুর ও হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে শুক্রবার ফের বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ। শুনানি শেষে মহামান্য বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর প্রথমে লাহেক আলিকে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। সেই মেয়াদ শেষ হলে তদন্তের স্বার্থে আরও ৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার তাঁকে পুনরায় আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে লাহেক আলি বলেন, “ভারতীয় সংবিধানের উপর আমার সম্পূর্ণ আস্থা আছে। মিথ্যে মামলা দিয়ে আমাকে আটকে রাখা যাবে না। খুব শীঘ্রই কমরেডদের সঙ্গে মাঠে দেখা হবে।” তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা।
উল্লেখ্য, বারুইপুরে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর এলাকাজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন রাস্তা ও রেল অবরোধ, ভাঙচুর এবং হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ৫ জুলাই বিক্ষোভের দিন লাহেক আলি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর উস্কানিতেই অবরোধ, ভাঙচুর ও হিংসার ঘটনা ঘটে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। এদিকে, একই বিক্ষোভ চলাকালীন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায়ও একাধিক গ্রেপ্তার হয়েছে এবং প্রশাসনের দাবি, গণপিটুনিতে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, লাহেক আলি বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলায় তাঁর সম্ভাব্য ভূমিকা এবং ষড়যন্ত্রের দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
