সোনারপুর: প্রতিকূল আবহাওয়া, বরফঝড় ও কঠিন প্রযুক্তিনির্ভর আরোহণের চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করে স্পাইক (M5) শৃঙ্গে সফলভাবে আরোহণ করল ‘সোনারপুর আরোহী’-র সেল্ফ-সাপোর্টেড অভিযানকারী দল। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এবারও অধরাই থেকে গেল বহু প্রতীক্ষিত মূলকিলা (M4) অভিযান। দলের সদস্যরা কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। আগামীকাল অর্থাৎ ২৭ জুন সকালে তাঁরা কলকাতায় ফিরবেন।

৫ জুন বেস ক্যাম্পে পৌঁছনোর পর প্রথম পাঁচ-ছয় দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও, মূলকিলা ও স্পাইকের মতো অত্যন্ত টেকনিক্যাল শৃঙ্গে আরোহণের জন্য বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও খাদ্য সামিট ক্যাম্পে পৌঁছে দিতে ১৮ জুন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এর মধ্যেই দল মূলকিলা (M4)-র ৬২৭৭ মিটার পর্যন্ত রুট ওপেন করে এবং প্রায় ৪০০ মিটার খাড়া দেয়ালে রোপ ফিক্স করে সামিট রিজে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১৯ জুন অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার স্পাইক (M5) শৃঙ্গে আরোহণের সিদ্ধান্ত নেয় দল। ভোর ৫টায় ৫৭৬০ মিটার উচ্চতার সামিট ক্যাম্প থেকে সাতজন আরোহী অ্যালপাইন স্টাইলে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু সেদিনই ছিল গোটা অভিযানের সবচেয়ে প্রতিকূল আবহাওয়ার দিন।

মাত্র দুই ঘণ্টায় ৬০৫০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছলেও প্রবল ঝড়, তুষারপাত ও হিমেল বাতাসের কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পরে আবহাওয়া সামান্য অনুকূলে আসতেই শুরু হয় ৭০ থেকে ৮৫ ডিগ্রি খাড়া বরফের দেয়াল বেয়ে শেষ পর্যায়ের আরোহণ। শেষ ১০০ মিটারে ৬০ থেকে ৯০ ডিগ্রি ঢাল এবং একটি ওভারহ্যাং অংশ পেরিয়ে রুদ্রপ্রসাদ হালদার, নৈতিক নস্কর, দেবাশীষ মজুমদার, সুব্রত চক্রবর্তী, দীপাশ্রী পাল, অনির্বাণ তালুকদার ও অপরেশ সন্নিগ্রহী সফলভাবে স্পাইক শৃঙ্গে পৌঁছন। জিপিএস রিডিংয়ে শৃঙ্গের উচ্চতা ধরা পড়ে ৬২৮৮ মিটার, যদিও সরকারি মানচিত্রে স্পাইকের উচ্চতা ৬৩৭০ মিটার উল্লেখ রয়েছে। ফেরার পথে রোপে নামার সময় প্রায় ২০ মিটার নিচে পড়ে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও মুহূর্তের মধ্যে দল পরিস্থিতি সামাল দেয়। টানা ১৯ ঘণ্টার সামিট মার্চ শেষে সবাই নিরাপদে সামিট ক্যাম্পে ফিরে আসেন।

এরপর ২০ জুন থেকে আবহাওয়া আরও খারাপ হয়ে পড়ায় এবং নির্ধারিত সময়ে মানালি ফেরার বাধ্যবাধকতা থাকায় মূলকিলা অভিযানের ইতি টানতে বাধ্য হয় দল। ফলে ৬২৭৭ মিটার পর্যন্ত রুট ওপেন করেও এবারও মূলকিলার চূড়ায় ওঠা সম্ভব হলো না। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালেও ‘সোনারপুর আরোহী’ মূলকিলা অভিযানে মাত্র ১৫১ মিটার দূর থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। এবারও আবহাওয়ার বাধায় সেই স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল। তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও স্পাইক (M5) জয় অভিযানের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। বর্তমানে দলের সকল সদস্য সুস্থ রয়েছেন এবং ২৭ জুন সকালে কলকাতায় ফিরবেন।
