নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাটানগরের পালবাড়িতে এবছর এক বিশেষ মাইলফলক। মা অন্নপূর্ণা পুজো পা দিল পঞ্চাশতম বর্ষে। বহু বছরের ঐতিহ্য বয়ে নিয়ে চলা এই পুজো আজও একই নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে পালিত হয়ে আসছে। যদিও গোটা পুজোর ইতিহাস প্রায় একশো বছরের পুরনো, তবে অন্নপূর্ণা পুজোর এই ধারাবাহিক আয়োজন এবার সুবর্ণজয়ন্তীর গর্বে উজ্জ্বল।

প্রতিবছরের মতো এবারও এক চালার সাবেকি প্রতিমায় সজ্জিত হয়েছেন মা অন্নপূর্ণা। এখানে একটি বিশেষ প্রথা লক্ষণীয়—মাকে ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় লুচি ও ভাঁজা, কিন্তু চালের ভোগ দেওয়া হয় না। এই রীতি বহুদিনের, যা আজও অক্ষুণ্ণ রেখেছে পাল পরিবার। এই পুজোর আরেকটি বড় আকর্ষণ হল পরিবারের মিলনমেলা। বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সদস্যরা এই বিশেষ উপলক্ষে একত্রিত হন, ফলে পালবাড়ি হয়ে ওঠে এক আনন্দঘন পারিবারিক আসর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের হাতেও সমানভাবে সমাদৃত।

প্রথা মেনে নবমী ও দশমীতে অনুষ্ঠিত হয় মায়ের পূজা। এই সময় বাড়িতে ভক্তদের আনাগোনা থাকে চোখে পড়ার মতো। শুধু পুজোই নয়, মানবিক দিক থেকেও এই আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পুজো উপলক্ষে গরিব ও দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে বস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়, যা এই পুজোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। সব মিলিয়ে, বাটানগরের পালবাড়ির অন্নপূর্ণা পুজো শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এক সামাজিক বন্ধন, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে উঠেছে।
