কুলতলিঃ জয়নগর–কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে মাতৃযান পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন সুন্দরবনের গর্ভবতী মহিলারা। শনিবার সকাল থেকে কুলতলি ব্লক জুড়ে চলা ১৬টি মাতৃযান গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছেন চালকেরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া টাকা না পাওয়ায় গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
চালকদের দাবি, প্রায় সাড়ে ছয় মাস ধরে তারা বিল পাচ্ছেন না। বকেয়া টাকা পাওয়ার দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় আবেদন জানালেও এখনও পর্যন্ত কোনও সুরাহা মেলেনি। ফলে জ্বালানি ও গাড়ি চালানোর খরচ বহন করতে না পেরে পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, জামতলা হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২০০ জন গর্ভবতী মায়ের প্রসব হয়। কুলতলি ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ জন গর্ভবতী মহিলা মাতৃযানেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হাসপাতালে আসতেন। কিন্তু পরিষেবা বন্ধ থাকায় এখন তাদের টোটো, ভ্যান বা অন্য গাড়ি ভাড়া করে হাসপাতালে আসতে হচ্ছে। নিশ্চয়যান চালক মোহন কুমার মণ্ডল জানান, টাকা না পাওয়ায় তারা জ্বালানির খরচ জোগাড় করতে পারছেন না। বিষয়টি কুলতলির বিধায়ক ও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককেও জানানো হয়েছে। যদিও জরুরি অসুস্থতা বা এমার্জেন্সির ক্ষেত্রে যাদের অন্যত্র স্থানান্তর করতে হচ্ছে, তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এদিকে, গর্ভবতী মহিলাদের পরিবারের অভিযোগ, বারবার ফোন করলেও অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা ফোন ধরছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন মণ্ডল জানান, বহুবার ফোন করেও নিশ্চয়যান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত টোটোতে করেই গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হয়েছে। প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত সমস্যার সমাধান নিয়ে স্পষ্ট কোনও বক্তব্য মেলেনি, ফলে দুর্ভোগ বাড়ছে সুন্দরবনবাসীর।
