নিজস্ব সংবাদদাতাঃ নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া দেহাংশের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বুধবার রাত পর্যন্ত ২১টি দেহাংশ উদ্ধার হওয়ার পর, বৃহস্পতিবার আরও চারটি দেহাংশ মিলেছে বলে পুলিশি উদ্ধারকারী দলের সূত্রে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া দেহাংশের বেশিরভাগই হাড়গোড়ের অংশ। একটি মাত্র ক্ষেত্রে কিছুটা গোটা কঙ্কাল মিলেছে। তবে উদ্ধার বাড়লেও ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুনঃনাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ১১, গাফিলতিতে মৃত্যুর ধারায় গ্রেফতার ডেকরেটার্স সংস্থার কর্ণধার
বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। দু’টি গুদামের একশো মিটার এলাকায় ব্যারিকেড করে নোটিস টাঙানো হয়েছে। সকাল থেকেই হাইড্রোলিক ক্রেনের সাহায্যে পুড়ে যাওয়া দু’টি গুদাম ভাঙার কাজ শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দু’টি গুদামই সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হবে। পুড়ে যাওয়া বিভিন্ন সামগ্রী স্তূপ হয়ে থাকায় গত দু’দিন ভিতরে ঢুকতে বাধা পাচ্ছিল উদ্ধারকারী দল। এ দিন ক্রেন ও ভারী যন্ত্রের সাহায্যে সেগুলি সরানোর চেষ্টা করা হলেও এখনও সব পরিষ্কার করা যায়নি। পরিস্থিতি অনুযায়ী, পুরো গুদাম ভাঙতে ও এলাকা পরিষ্কার করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৭ জনের নামে নিখোঁজের ডায়েরি করা হয়েছে। তাঁদের সকলের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ২১টি দেহাংশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। দেহাংশগুলি থেকে লিঙ্গ বা আনুমানিক বয়স নির্ধারণ করা যায়নি। প্রতিটি দেহাংশ থেকে হাড়, দাঁত, টিস্যু ও মাংসপেশীর নমুনা ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরে নিখোঁজদের নিকটাত্মীয়দের রক্তের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। খুব শীঘ্রই এই মিলিয়ে দেখার কাজ শুরু হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ময়নাতদন্ত হওয়া ২১টি দেহাংশের মধ্যে দু’টি ক্ষেত্রে সেগুলি মানুষের না কোনও প্রাণীর—তা নিশ্চিত করতে পারেননি চিকিৎসকেরা। বিশেষ পরীক্ষার জন্য ওই নমুনা রাজ্যের ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়া, দাহ্য তেলজাতীয় পদার্থ বা অন্য কোনও উপাদানের ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেও নমুনা পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রাতে গুদামের ভিতরে শ্রমিকদের সঙ্গে কোনও পোষ্য ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গঙ্গাধর দাস নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি পুড়ে যাওয়া দু’টি গুদামের মালিক বলে জানা গিয়েছে। একটি গুদাম মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থাকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল, অন্যটিতে তাঁর ডেকোরেটিং সংস্থার সামগ্রী মজুত ছিল। ডেকোরেটিং সংস্থার গুদামেই ঘটনার রাতে একাধিক শ্রমিক ছিলেন এবং রান্নাবান্নার কাজ চলছিল। সেখান থেকেই আগুন লাগতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। যদিও গঙ্গাধরের দাবি, ভাড়াটে মোমো সংস্থা চুক্তি ভেঙে দাহ্য সামগ্রী রেখেছিল। ডেকোরেটিং সংস্থার অন্য সদস্য ও মোমো সংস্থার কর্ণধারদের গ্রেফতারের দাবিও উঠেছে। এ দিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পর্দার আড়ালের দোষীদের খুঁজে বের করার দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা এখনও প্রিয়জনের ফেরার আশায় দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে খোঁজ চলছে। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের নীলকুণ্ঠ্যা গ্রামের গণেশ মাইতি জানান, তাঁর ভাইপো বিমল মাইতি দীর্ঘ ১৭ বছর ওই সংস্থায় কাজ করতেন। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন তিনি। নিখোঁজদের পরিবারগুলির বড় প্রশ্ন—কবে মিলবে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট। হাসপাতাল সূত্রে এক-দু’দিন বলা হলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, রিপোর্ট পেতে আরও সময় লাগতে পারে।
