কাটাখালঃ শ্যালিকার একটুখানি পরামর্শই বদলে দিল জামাইবাবুর জীবন। বাঙালি সমাজে জামাইবাবু আর শ্যালিকার সম্পর্ক এমনিতেই মিষ্টি ও মধুর—সেই সম্পর্কের টানেই জীবনের মোড় ঘুরে গেল চম্পাহাটির শ্যামল মণ্ডলের। সোশাল মিডিয়ায় তিনি আজ ‘ক্যারাটে পুছকাওয়ালা’ নামেই পরিচিত।
আরও পড়ুনঃ গড়িয়া স্টেশন এলাকায় পুলিশের কাজে বাধা, প্রাক্তন সিভিক ভলান্টিয়ার গ্রেফতার
চম্পাহাটির বাসিন্দা ৫৩ বছর বয়সি শ্যামল মণ্ডল বিগত ২২ বছর ধরে পুছকার ব্যবসা করে চলেছেন। এক সময় তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তবে সেই কাজে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। ঠিক সেই সময় শ্যালিকা নমিতা নস্করের পরামর্শে পুছকার ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বাড়ির সামনেই কাটাখাল ব্রিজের কাছে ছোট্ট করে পুছকা বিক্রি শুরু করেন শ্যামল। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শ্যামল মণ্ডল মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। প্রতিদিন বিকেল ৪টে থেকে রাত ৮টা—এই নির্দিষ্ট সময়েই তাঁকে পাওয়া যায় পুছকার দোকানে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ ছুটে আসেন তাঁর লোভনীয় স্বাদের পুছকা খেতে।
কখনও ফাঁকা জলের বোতল শুন্যে ছুড়ে ফেলা, কখনও মুখে লঙ্কা মাখা, আবার কখনও ক্যারাটে স্টাইলে পুছকা ভেঙে জল আর আলুভরা পুছকা শুন্যে ছুড়ে দেওয়া—সব মিলিয়ে তাঁর অভিনব পুছকা পরিবেশনের কৌশল মানুষের কাছে দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। দু’টি ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এখন স্বচ্ছন্দেই চলছে শ্যামল মণ্ডলের সংসার। শ্যালিকার সেই এক পরামর্শই আজ তাঁকে এনে দিয়েছে পরিচিতি, সম্মান আর স্বাবলম্বী জীবনের নিশ্চয়তা।
