বিস্ফোরণস্থলে পুলিশি তৎপরতা
চম্পাহাটিঃ চম্পাহাটিতে ফের বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। শনিবার সকালে হঠাৎ বিস্ফোরণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল একটি পুরো বাড়ি। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত চারজন। আহতদের মধ্যেগৌরহরি গাঙ্গুলি (৬০) কৃষ্ণ প্রামানিক (১৭) দু’জনকে কলকাতার এম আর বাঙুর হাসপাতালে এবং রাহুল পুঁই (২২), বিশ্বজিৎ মন্ডল (১৮) এই দু’জনকে বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চারজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বারুইপুর থানার পুলিশ। নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাড়িটি সম্পূর্ণভাবে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। পাশের একটি বাড়ির ছাদ উড়ে যায় এবং সংলগ্ন একটি গাছও ভস্মীভূত হয়ে পড়ে। এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাড়ির ভিতরে চলছিল বাজি তৈরির কাজ। সেই সময় আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরপর তিনবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। বিস্ফোরণের পর চারদিকে ধোঁয়া আর ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর চকলেট বোমা উদ্ধার হয়েছে। নিষিদ্ধ শব্দবাজি তৈরি হচ্ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বাড়ির বৈধ লাইসেন্স ছিল কিনা এবং বাজি তৈরির সময় সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, চম্পাহাটিতে প্রায় প্রতিবছরই এ ধরনের বিস্ফোরণ ও প্রাণহানিকর ঘটনার খবর সামনে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বাজি তৈরির কাজই তাঁদের রুজি-রোজগারের প্রধান ভরসা। ঝুঁকি জেনেও একের পর এক প্রজন্ম এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। তবে বহু মানুষ নিয়মিত নজরদারি ও কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন, যাতে বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।
