নয়াবাদঃ উত্তর সোনারপুর নয়াবাদ বইমেলা এবার দশম বর্ষে পা রাখল। খেয়াদহ ১ গ্রাম পঞ্চায়েত, খেয়াদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েত, কামরাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েত এবং সোনারপুর বঙ্গীয় শিশু সাহিত্য অঙ্গনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই বইমেলা ইতিমধ্যেই এলাকাবাসীর কাছে এক সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলার প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মেলাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
মেলায় রয়েছে বিজ্ঞানের প্রদর্শনী, নামী-দামি বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার বইয়ের স্টল এবং দর্শনার্থীদের জন্য বাহারি খাবারের স্টল। সব মিলিয়ে জমজমাট পরিবেশ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষই ভিড় করছেন এই বইমেলায়। কেউ বাবা-মায়ের হাত ধরে, কেউ আবার দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে এসে বই কিনছেন। বইয়ের গন্ধে, পাতার শব্দে যেন আবার ফিরে এসেছে হারিয়ে যাওয়া পাঠাভ্যাস। বইমেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই আয়োজন করা হয়েছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, বিতর্ক সভা, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশন ও সংগীত পরিবেশন দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবছর বই বিক্রি অনেকটাই বেড়েছে। যা প্রমাণ করে, ডিজিটাল যুগেও বইয়ের প্রতি মানুষের টান এখনও অটুট।

বইমেলা কমিটির চেয়ারম্যান এবং সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম নিজে এই বইমেলার উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, “এই বইমেলা প্রতি বছরই সোনারপুর অঞ্চলের মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।” মেলা কমিটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা গোরাচাঁদ নস্কর জানান, এবছরের বইমেলার মূল ভাবনা ‘সোনারপুর’। এই থিমের মাধ্যমে সোনারপুরের অজানা ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে। মোট ৯ দিনের এই বইমেলা এলাকার সুস্থ সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। সকলেরই প্রত্যাশা—মোবাইলের স্ক্রিন ভুলে আগামী প্রজন্ম আবার বইয়ের নেশায় মেতে উঠবে।
