জয়নগর: দলীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি ছাড়লেন জয়নগর ব্লকের বহড়ু ক্ষেত্র গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সঙ্গীতা হালদার মন্ডল। অভিযোগ, বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বারবার জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনও সাড়া মেলেনি। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। তবে বামফ্রন্ট ও বিজেপির অভিযোগ—চাপ সৃষ্টি করে ও প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে তৃণমূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃদুর্নীতির অভিযোগ তুলতেই প্রাণনাশের হুমকি! পোলঘাট পঞ্চায়েত উপপ্রধানকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক
জয়নগর বিধানসভা কেন্দ্রের সাংগঠনিক বৈঠকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক জাহাঙ্গীর খানের উপস্থিতিতেই তৃণমূলে যোগ দেন সঙ্গীতা। এদিন জাহাঙ্গীর খান বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোটে জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছে দল। বিরোধী দলের কর্মী–সমর্থক থেকে জনপ্রতিনিধিদেরও দলে টানতে হবে। যারা বিরোধী দলকে ভোট দিয়েছেন—তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যোগাযোগ গড়ে তোলার বার্তাও দেন তিনি।
তৃণমূলের এই দলভাঙানো কৌশলকে কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য মিহির মন্ডল বলেন, “তৃণমূল তোলাবাজির দল। ভয় দেখিয়ে, প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের দলের সদস্যকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সঙ্গীতার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সিপিএম কমিটির সদস্য অপুর্ব প্রামানিক বলেন, “বিজেপি আর তৃণমূল—একই মুদ্রার এপিঠ–ওপিঠ। প্রয়োজন হলেই সুযোগসন্ধানের মানসিকতায় এক দল থেকে অন্য দলে যান অনেকে। গণতন্ত্রের পক্ষে এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক।” বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলবদলের এই প্রবণতা জয়নগর এলাকায় নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
