ভাঙড়ঃ ভাঙড়ে প্রকাশ্যে খুন তৃণমূল নেতা রেজ্জাক খান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে চারটি গুলির খোল। বুকে গুলি করা হয়েছিল রেজ্জাক খানকে। শুধু গুলি নয়, মুখ, চোখ-সহ একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয় তাঁকে।
পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, বিজয়গঞ্জ বাজারের দিক থেকে নিজের বুলেট বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ঘটনার সময় সঙ্গে ছিলেন পাড়ার দুই যুবক। বাইক যখন অন্ধকার রাস্তা দিয়ে ফিরছিল, তখনই অতর্কিতে হামলা চালায় আততায়ীরা। দুই দিকে ভেরি থাকায় রাস্তাটি প্রায় বন্ধ ছিল, সেই সুযোগেই ঘন অন্ধকারে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে পুলিশের অনুমান। এমনও মনে করা হচ্ছে, রেজ্জাক খান ওই রাস্তা দিয়ে ফিরবেন—এই খবর আগেই ছিল আততায়ীদের কাছে। তাঁর বুলেট বাইকটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭.৩০টার মধ্যে তিনি বাড়ি ফিরতেন। কিন্তু গতকাল রাত হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেয় আততায়ীরা। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গীরা আতঙ্কে লুকিয়ে পড়েন। এই ঘটনার পর শওকত মোল্লা মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যদিও এখনও নির্দিষ্ট কারোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, চার-পাঁচজন দুষ্কৃতী বিভিন্ন দিক থেকে গুলি চালায়।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে সরাসরি আইএসএফ-এর দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। পাল্টা সুরে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, “প্রশাসন যেন রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে তদন্ত করে। শওকত মোল্লা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন। তাঁর পুরনো রেকর্ড দেখলেই বোঝা যাবে কী ধরনের রাজনীতি তিনি করেন।” তাঁর দাবি, রেজ্জাক খানের সঙ্গে আইএসএফ-এর সম্পর্ক ভালো ছিল। তাই এই খুনকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলেই মনে করছেন তিনি। ময়নাতদন্তের পর দেহ ফিরলে তৃণমূলের তরফে মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে ভাঙড়। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। আতঙ্ক ও চাপা উত্তেজনার মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ, জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে প্রত্যক্ষদর্শীদেরও।
