বারুইপুর: দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভার মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, *“কালীঘাট আমার জন্মভূমি, আর এই জেলা আমার কর্মভূমি। এই মাটিতেই যেন আমার মৃত্যু হয়। আপনাদের আশীর্বাদ নিয়েই বাংলা জয়ের লক্ষ্যে নামব।”*

অভিষেকের দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকেছে। ২০০৮ সালে সিপিএমের শাসনকালেও এই জেলা পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল বলে মনে করান তিনি। আসন্ন নির্বাচনের লক্ষ্য স্পষ্ট করে তিনি জানান— *“৩১ এ ৩১ আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে হবে। নেতৃত্ব থেকে কর্মী—সবাইকে বুথে যেতে হবে। বিজেপিকে একটি বুথেও লিড দেওয়া যাবে না।”*

বিজেপিকে ‘বাংলা-বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধের অভিযোগ তোলেন অভিষেক। বলেন, *“ভাতে মারতে চেয়েছে বিজেপি সরকার। SIR নিয়ে এসেছে—এর জবাব মানুষই দেবে।”* র্যাম্প বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জবাব দিতে তিনজনকে সামনে আনা হয়েছিল—হরেকৃষ্ণ গিরি, মায়া দাস ও কাকদ্বীপের এক বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা। অথচ এঁরা জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁদের মৃত দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিন দিল্লি অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে অভিষেক বলেন, *“আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস দিল্লি যাবে। সোনারপুরের রাস্তায় যে জনসমুদ্র, তাতে জ্ঞানেশ কুমার-অমিত শাহ ভেসে যাবেন।”* তিনি আরও কড়া ভাষায় বলেন, *“যার নেতৃত্বে বাংলাদেশে হিন্দু নিধন হচ্ছে, তাকে সমর্থন করছে শুভেন্দু অধিকারী। এরা কি হিন্দু দরদী? যারা দিল্লির দালালি করে, তারা কি বাংলার সম্প্রীতি রক্ষা করবে?”*
বিজেপির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর কথায়, *“বিজেপি নিজেদের কর্মীদেরই রক্ষা করতে পারে না, তারা কীভাবে বাংলার মানুষকে রক্ষা করবে?”*
সবশেষে ২০২৬-এর নির্বাচনের ডাক দিয়ে অভিষেক স্পষ্ট লক্ষ্য বেঁধে দেন— *“২৬-এর নির্বাচনে বিজেপিকে শিক্ষা দিতে হবে। ৩১টি আসনে প্রত্যেকটিতে ৫০ হাজার লিড—এই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।”*
